দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই আশার প্রেক্ষিতে ডলারের দর কিছুটা কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বেড়ে প্রায় দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (১ এপ্রিল) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬৮৫ দশমিক ৭৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। দিনের শুরুতে এটি ৪ হাজার ৭২৩ দশমিক ২১ ডলারে উঠেছিল, যা গত ২০ মার্চের পর সর্বোচ্চ। একই সময়ে এপ্রিল ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৭১৩ দশমিক ৪০ ডলারে পৌঁছেছে।
মার্কিন ডলার শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমে যাওয়ায় অন্যান্য মুদ্রাধারীদের জন্য ডলার-নির্ধারিত পণ্য, বিশেষ করে স্বর্ণ, তুলনামূলক সাশ্রয়ী হয়ে উঠেছে। মারেক্সের বিশ্লেষক এডওয়ার্ড মেয়ার বলেন, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলা না হলেও যুক্তরাষ্ট্র দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধ শেষ করতে পারে-এমন আলোচনায় মার্কিন শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে, যার প্রভাব স্বর্ণের দামেও দেখা যাচ্ছে।
এদিকে ট্রাম্প বলেছেন, সংঘাত নিরসনের জন্য তেহরানকে কোনো পূর্বশর্তে চুক্তিতে আসতে হবে না। তিনি বুধবার জাতির উদ্দেশে ভাষণে ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরবেন।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমার সম্ভাবনায় বিশ্বজুড়ে শেয়ার ও বন্ড বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, স্বর্ণের দাম বাড়ার গতি সীমিত থাকতে পারে। কারণ মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা বাড়লে সুদের হারও বাড়তে পারে, যা স্বর্ণের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কঠোর মুদ্রানীতির প্রত্যাশা বাড়ায় এবং ডলার নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে শক্তিশালী অবস্থান নেয়ায় মার্চ মাসে স্বর্ণের দাম ১১ শতাংশের বেশি কমেছে। এটি অক্টোবর ২০০৮-এর পর সবচেয়ে বড় মাসিক পতন।
যুদ্ধের আগে অন্তত দুইবার সুদের হার কমার সম্ভাবনা থাকলেও এখন বাজারে সেই প্রত্যাশা প্রায় নেই বললেই চলে। ব্যবসায়ীরা ধারণা করছেন, চলতি বছর ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমাবে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বর্ণ সাধারণত কম সুদের হারের পরিবেশে ভালো করে, কারণ এটি কোনো লভ্যাংশ দেয় না। ওসিবিসি’র কৌশলবিদ ক্রিস্টোফার ওং বলেন, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও কমে গেলে ফেডের নীতি শিথিল করার প্রত্যাশা ফিরতে পারে। এতে প্রকৃত সুদের হার কমবে, যা স্বর্ণের দামের জন্য সহায়ক হবে।
এদিকে, বিশ্ববাজারে দাম বাড়ায় দেশের বাজারেও বাড়তে পারে স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববাজারে দাম বাড়লে এর প্রভাব পড়ে দেশের বাজারেও। তাই যে কোনো সময় দেশের বাজারেও দাম বাড়ানো হতে পারে।
এর আগে সবশেষ গত ৩১ মার্চ সকালে দেয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে দেশে স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন। সেদিন ভরিতে মূল্যবান এই ধাতুটির দাম ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বাড়ানো হয়েছে। নতুন দাম কার্যকর হয়েছে সেদিন সকাল ১০টা থেকেই।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়ছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২১৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৩ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।
অন্যদিকে অন্যান্য ধাতুর দামে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। স্পট রুপার দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭৪ দশমিক ৫৩ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৯৬৩ দশমিক ২২ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৪৮৪ দশমিক ৮৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
কে